মতলবে এবার চাই এর চাহিদা তুঙ্গে বিক্রি ও হচ্ছে বেশি

জ্যৈষ্ঠের ঘন বর্ষণে ইতিমধ্যে বর্ষা তার আগাম আগমণ বার্তা জানিয়ে দিয়েছে। ঋতু বৈচিত্র্যের এ দেশের সংস্কৃতিতে বর্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
বৃষ্টিভেজা শ্যামল বাংলা অপরূপ শোভা ধারণ করে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু পানি আর পানি, সে এক অবর্ণনীয় নৈসর্গিক শোভা। নদী, খাল, বিলসহ তামাম জলাশয় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ভেলা বানিয়ে গাঁয়ের ছেলেরা ভাসান দেয় বিলের জলে। কিশোর-যুবা-বৃদ্ধ মেতে ওঠে মাছ ধরায়। 
গ্রামীন ঐতিহ্যের সবচেয়ে প্রাচীন একটি ঐতিহ্য হচ্ছে এ মাছ ধরার চাই। 

মতলব উত্তর উপজেলার চর লক্ষ্ণীপুর গ্রামের রমজান আলী (৪৮) জানান, তারা বছরের ছয় মাস ধরে এ কাজে লেগে থাকবেন। দেশি বাঁশ এ ব্যবসার প্রধান কাঁচামাল।
গ্রামের তল্লা বাঁশ দিয়ে চাই-বুছনা বানান তারা। একটি বাঁশে কম করে হলেও ৩/৪টি চাই বানানো যায়। তবে বুছনা একটু বড় আকারে হয়। ঘরের অন্যান্য কাজের ফাঁকে প্রতিদিন গড়ে একজোড়া চাই বানানো যায় বলে তিনি জানান।

চাই বানানোর কাজ শেষ হলে বিভিন্ন বাজারে চাই গুলো বিক্রি করা হয়। প্রতি জোড়া চাই ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। বর্ষার শুরু হতে পুরো মতলব জুড়ে এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
ছেলে বুড়ো সবাই এই চাই কিনে মাছ ধরতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। স্হানীয় ভাবে জানা যায় খাল, বিল আর নদীতে অনেকেই পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে এই চাই দিয়ে মাছ ধরেন।

পরিবারে মাছের চাহিদা মেটার পাশাপাশি অনেকে মাছ বিক্রিও করে থাকেন। এতে অনেক পরিবার আর্থক ভাবে সাবলম্বী হয়ে থাকে। পুরো মতলব জুড়েই এখন চাই এর চাহিদা তুঙ্গে।

কয়েকটি গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, নানান আঙ্গিকে তৈরি এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। কোনোটিকে বলা হয় চাই, কোনোটি বুছনা, কোনোটিকে গড়া আবার কোনোটির নাম খুচইন।

বর্ষা থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত সময় এসব ফাঁদ বিক্রি হবে মতলব ও এর আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন হাটে।

তবে কেবল মৌসুমি পেশা নয়, এ নিপুন শিল্পটি গ্রামীণ মানুষগুলোর জন্য হতে পারে সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। তার জন্য প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা।

এ-এ 

Post a Comment

0 Comments