বাংলাদেশের ২য় বৃহওম সেঁচ প্রকল্প মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা সেঁচ প্রকল্প


মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর দুটি উপজেলা বিভক্ত হওয়ার আগে চাদঁপুর জেলার মতলব উপজেলা ছিল অনেক বড় একটি উপজেলা। মতলব উপজেলাটির উত্তর পশ্চিম দিকে মেঘনা নদী ও পূর্ব দিকে প্রভাহিত ধনাগোদা নদী দ্বারা বেষ্ঠিত। পূর্বে দাউদকান্দি (কুমিল্লা) উত্তরে গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) দক্ষিনে (চাঁদপুর) পশ্চিমে শরিয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলা। আর মেঘনার শাখানদী ধনাগোদা মতলব উপজেলাকে করেছে দুই ভাগে বিভক্ত।

মতলবের উওর দিকের ১৭৫৮৪ হেক্টর ভূ-খন্ডের ফসলী জায়গা টুকু কিছুটা নীচু ভূমি হওয়ায় বন্যা ও ক্ষরা মৌসুম প্রায় সময় মেঘনা-ধনাগোদা নদীর পানিতে তলিয়ে থাকতো। ফলে বিভিন্ন মৌসুমে ইরি, আমন, বোর ধান চাষ করা সম্ভব হত না। এছাড়া বন্যার ক্ষয় ক্ষতি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা , জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী ভাংঙ্গন থেকে পরিত্রাণের জন্য ১৯৮৭ – ১৯৮৮ সালের অর্থ বছরে নির্মিত করা হয় মেঘনা ধনাগোদা বেড়িবাধ এবং এর ভিতর স্থাপন করা হয় সেঁচ প্রকল্প। যার নামকরন হয় মেঘনা ধনাগোদা সেঁচ প্রকল্প । যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সেচ প্রকল্প। বেড়িবাঁধের বৃত্তাকার দৈর্ঘ্য ৬৪ কিঃ মিঃ।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯,০২১ হেক্টর জমির বন্যা নিয়ন্ত্রন ও পানি নিষ্কাশন এবং ১৪,৪০০ হেক্টর এলাকার জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় রয়েছে দুটি পানি উত্তোলন কেন্দ্র, এর একটি উধামদিতে যার উত্তোলন ক্ষমতা ৪৩.৩৫ কিউমেক এবং অপরটি কালিপুরে অবস্থিত যার উত্তোলন ক্ষমতা ২৮.৯ কিউমেক। পাম্পগুলো সেচ এবং নিষ্কাশন দ্বিবিধ উদ্দেশ্যেই ব্যবহূত হয়। প্রকল্প এলাকায় রয়েছে দু্টি বুস্টার পানি উত্তোলন কেন্দ্র, এর একটি ইসলামপুরে (উত্তোলন ক্ষমতা ২.২৬ কিউমেক), অপরটি দুবগিতে (উত্তোলন ক্ষমতা ৩.৪ কিউমেক)। প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৬৪ কিমি দীর্ঘ বন্যা প্রতিরোধী ভেড়িবাঁধ, ২২০ কিমি দীর্ঘ সেচ খাল ও ১২৫ কিমি দীর্ঘ নিষ্কাশন। এই ধনাগোদা নদীর পানি পাম্পের সাহায্যে মতলব উত্তর উপজেলার ভিতরে প্রবাহিত করা হয়। আবার যখন বন্যার পানি অতিরিক্ত হয়ে যায় তখন আবার এই সেচ পাম্পের সাহায্যেই উত্তরের পানি পাম্পের সাহায্যে ধনাগোদা নদীতে নিয়ে আসা হয়।



চাঁদপুরের মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাধঁ প্রকল্পের ফলে এখানকার প্রায় ৮/৯লক্ষ লোক স্বাবলম্ভী হয়ে উঠেছে । কৃষকরা ইরি সহ তিন ফসল ঘড়ে তুলছে ।যদি ও এ বেড়িবাধেঁর অভ্যন্তরের মানুষ পূর্বে দুমুঠো ভাত খেতে কষ্ট হত । শুধু জমিনের ফসল নয়, পুকুর ভরা মাছ, ফলের বাগান,কাঠ গাছ ইত্যাদি সহ সব মিলে এ প্রকল্প আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদে পরিনত হয়েছে । বেড়িবাধেঁর ফলে বর্ষার পানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না । যার ফলে এর অভ্যন্তরে নিচু জমিনে গড়ে উঠেছে ঘড়-বাড়ী, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাছের চাষ,ছোট হাসপাতাল, এন জি ও সংস্থা সহ নানান জনকল্যান মুখী প্রকল্প ।

যাই হোক,এই কোটি কোটি টাকার সম্পদ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যদি এ বেড়িবাধঁ টেকানো না যায় ।আজ এ বেড়িবাধঁ হুমকির মুখে । বর্ষায় ও বন্যায় যে কোন সময় তাসের ঘড়ের মত ধুলিসাত হয়ে যেতে পারে এ বেড়িবাধেঁর অভ্যন্তরের ৮/৯লক্ষ মানুষের স্বপ্ন । তাই সময় এসেছে এ বেড়িবাধঁ প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার । আমার মত ৮/৯ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন যদি সরকার নতুন করে এ বাধেঁর রক্ষার্থে বহিঃঅংশে স্থায়ীভাবে একটি দেয়াল বানিয়ে দিত । নদীর পাড় ঘেষে যদি একটি দেয়াল বানানো যায় তাহলে ইনশাল্লাহ্ এ বাধেঁর ক্ষতি হওয়ার আর কোন সম্ভাবনা থাকবে না । তাতে সুরক্ষিত থাকবে কোটি কোটি টাকার জনমানব সম্পদ । তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও সরকারের উচিত নতুন করে ভেবে দেখবার এ প্রকল্প রক্ষা করার।

Post a Comment

0 Comments