জানালার গ্রিলকে চিকেন গ্রীল মনে করে বাজিতে হেরে বেহুশ মতলবের বশির

আজকাল অনেকেই যাচাই বাছাই না করেই সিদ্ধান্ত নিতে চায়। দিন দিন তরুনদের ধৈর্য শক্তি যেনো কমেই আসছে। কিছু না কিছুতেই ছেলে মেয়েরা বাজি ধরতে চায়। কিন্ত পবিত্র কোরআনে বাজি ধরতে নিষেধ করা হয়েছে।

এমনি এক হাস্যকর কিন্ত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেলো মতলবের উত্তরে। বিবেক না খাটিয়ে অযাচিত কথা বার্তায় যে কি পরিনতি হতে পারে সে ঘটনাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে এখানে।

ছেলেটির নাম মোঃ বশির । সে একজন ছাত্র। এলাকার সবাই তাকে নরম ভদ্র বলেই জানে। মানুষ হিসেবে খুবই ভালো সে। হাস্বোজ্জ্যল এবং মানুষের সাথে মিশে মজা করতে ভালোবাসে সে।

বশিরের অনেক গুলো শখের মধ্যে একটি শখ হচ্ছে সে খাওয়া দাওয়া করতে অনেক পছন্দ করে। তার মধ্যে চিকেন তার খুবই প্রিয়। আর চিকেনের গ্রিল হলে তো কোন কথাই নেই। চিকেন গ্রিল আর শাহি পরোটা তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার।

জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি যে কিনা বশিরের পরিচিত। তারা কয়েক জন মিলে ঐ দিন বিকেলে আড্ডা দিচ্ছিল। বিভিন্ন খাবার নিয়ে তারা আলাপ করছিলো। এরই মাঝে লুপিন বলে উঠলো যে কোনো দোকানের গ্রিল সে খেতে পারবে।

জাহাঙ্গীর সে ছিলো একটু চতুর স্বভাবের আর বিপরীতে বশির ছিলো তুলনামূলক সহজ সরল। তো কথার ফাঁকে জাহাঙ্গীর বলে উঠলো যে কোন দোকানের গ্রিল তুমি খেতে পারবেনা। কথাটি কয়েকবার বলায় লুপিন একটু রেগে গিয়ে বললো আপনি আমাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।

বশির বলতে লাগলো গ্রিল আমার খুবই প্রিয় যে কোন দোকানের গ্রিল আমি খেতে পারবো। সুযোগটি পেয়ে গেলো জাহাঙ্গীর যেহেতু সে একটু চতুর স্বভাবের ছিলো। সে বলে উঠলো আচ্ছা বাজি তোমার সাথে। লুপিন ও বলে উঠলো আচ্ছা বাজি এক হাজার টাকা।

বশির বার বার বলছিলো জীবনে কতো গ্রিল খেলাম। একটা গ্রিল আর কী ? না হয় এটা একটু কম পোড়া হবে। একটু না হয় কাচা মাংস খেতে হবে তাতে কি বাজি আমি জিতেই ছাড়বো।

ঠিক করা হলো সন্ধ্যার পর তারা বাজারে গিয়ে বাজি খেলবে। সেই কথামতো সন্ধ্যের শুরুতেই তারা দু’জন সহ তাদের দলবল বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো।

বাজারে পৌছানোর পর বশির জাহাঙ্গীর কে উদ্দেশ্য করে বললো বলেন কোন দোকানের গ্রিল খেতে হবে। জাহাঙ্গীর তখন হোটেলে না নিয়ে লুপিনকে নিয়ে গেলো স্টিলস এর দোকানে যেখানে লোহা বা স্টিলের আসবাব বানানো হয়।

আর বশিরকে ধরিয়ে দিলো আস্তো একটা জানালার গ্রিল। লুপিন বলে উঠলো এটা কি মজা হচ্ছে বলা হয়ছিলো চিকেন গ্রিল। তখনি জাহাঙ্গীর বলে উঠলো তুমি বলেছিলে তুমি যে কোন দোকানের গ্রিল খাবে।

এই কথা বলার পর তাদের দু’জনের মধ্যে তুমুল বিতর্ক শুরু হলো। বিতর্কের এক পর্যায়ে বশিরের মনে পড়লো আসলেই সে বোকার কাজ করেছে। তাকে বলা হয়ছিলো যে কোন দোকানের গ্রিল খেতে হবে।

সে ভেবেছিলো সব দোকানেই মনে হয় চিকেন গ্রিল তৈরি হয়। কিন্ত এখন তো এখানেই শেষ নয়। তাকে এক হাজার টাকা দিতে হবে। সে বাজি হেরে গিয়েছে।

বশির জাহাঙ্গীরের দিকে তাকিয়ে আছে তার চোখ দুটি ছোট হয়ে আসছে। মাথাটা কেমন যেনো ঘুরছে। সে চোখে আবছা দেখতে পাচ্ছে। পরখনেই সে মাটিতে পরে গেলো এরপর আর লুপিনের কিছু মনে নেই।

কতখন পরে বশির চোখ মেলে দেখলো তার সামনে দাড়িয়ে এক কুড়ি মানুষ। সে উঠে বসতে পারছেনা তার কথা অস্পষ্ট। বশিরের মার চোখের কোনে দু ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরছে। সবাই বলছে তুমি কেনো এমন করলে। যদি কিছু হয়ে যেতো।

পরদিন সকালে বশির শুনলো পুরো ঘটনা। বাজি হেরে যাওয়ার পরপরই সে বেহুশ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক সে বেহুশ ছিলো। পানি আর বাতাস দিয়েও তার হুশ ফিরানো যাচ্ছিলোনা।

আসলে সে মেন্টালি অনেক বড় একটি শক খেয়েছিল। সে জানালার গ্রিলের কথা ভুলেই গিয়েছিলো। বাজি ধরেছিলো এক হাজার টাকা। মূলতো জানালার গ্রিল আর বাজির এক হাজার টাকা। এই দুই কারনেই সে বেহুশ হয়ে যায়।

তাই প্রিয় পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলতে হচ্ছে। নিশ্চয় যে কোন কথা বলার আগে ভেবে চিন্তে বলতে হবে। আর বাজি খুবই খারাপ জিনিস যা মানুষের মনে হুংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এবং বাজি ধরা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


সকলের সুন্দর এবং সুস্হ্য জীবন কামনা করছি। সকলে নিরাপদে থাকুন পরিবারকে সময় দিন। বিপদে সবসময় পরিবারই এগিয়ে আসে তাই পরিবারের সবাইকে ভালোবাসুন।

কপ রবিনহুড।

Post a Comment

0 Comments