মতলবে এবারো গেন্ডারির ভালো ফলন

অনুকূল আবহাওয়া,পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,রোগ-বালাই কম, সঠিক পরিচর্চার কারণে এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশানুরুপ উৎপাদন হয়েছে আখের ।এর মধ্যে বাম্পার ফলন হয়েছে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। আর তাতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। 
মতলব উত্তর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে আখের খুচরা ও পাইকারি বিক্রি। আগামি এক মাসের মধ্যে অধিকাংশ জমির আখ বাজারে আসতে পারে।


চাঁদপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলার আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৬৭০ হেক্টর।
মতলব উত্তর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা সেচ প্রকল্পের আওতায় হওয়ায় জমিগুলো কৃষি উপযোগী থাকে বছর জুড়ে। তাই এখানে বেশি পরিমানে চাষ হয়ে থাকে।

মতলব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এবছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ চাষিরা জমিতে কাজ করছেন। কেউ আখ তুলছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। আবার অন্য শ্রমিক এসব আখ সড়কে নিয়ে স্তূপ করে রাখছেন।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কলাকান্দা ইউনিয়নের দশানী এলাকার এক কৃষক জানান, তিনি এ বছর ৫৫ শতাংশ জমিতে আখের চাষ করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে তার কমপক্ষে ৩৫ হাজার টাকার মতো লাভ হবে।

মতলব দক্ষিণের নারায়নপুর এলাকার কৃষক জানান, আমাদের এলাকায় আখ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামি ১ মাসের মধ্যে সব আখ বিক্রি হয়ে যাবে। তবে কিছু উঁচু জমির আখ দেরিতে বিক্রি হয় এবং ওইসব কৃষক দামও ভালো পান। এখন পাইকাররা এসে পুরো জমির আখ একসঙ্গে ক্রয় করে নিচ্ছে। এবার দাম ও ভালো পাবো বলে আশা করেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি অফিসার মো.সালাউদ্দিন জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় মতলব সহ চাঁদপুরে এবার আখের আবাদ খুবই ভালো হয়েছে। চাঁদপুর গ্যান্ডারি নামক আখ এখন স্থানীয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আশিক জামিল জানান, এবছর ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আমরা নিয়মিত কৃষক ভাইদেরকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি। আখের বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি এবং আর্থিক ভাবে ও লাভবান হবে। আগামিতে আরো বেশি জমিতে আখ চাষের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার আখ জেলা ছাড়িয়ে পাশের জেলা লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ঢাকার বাজারে বিক্রি হয়, তাই কৃষকরা ভালো দাম ও পায়।

আখ লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকদেরও দিন দিন আখ আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আখের গায়েব রং দেখতে ভালো হয়েছে এবং মোটা ও লম্বা সাইজের হয়েছে । বিভিন্ন হাটে-বাজারে ও আখের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাজারে দাম একটু বেশি হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রচুর । ফলে চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments