ভেজা বর্ষায় চাঁদপুরে গাছে গাছে কদমের সমারোহ

বাংলায় প্রবাদ—কানু বিনে গীত নাই। সেই কানুকে আশ্রয় করে পৌরাণিক চরিত্র হয়ে ওঠা ফুলটির নাম কদম। বৃষ্টি ঝরুক আর না ঝরুক, কদম ফুটলেই বর্ষা নামে বাংলায়। ঘন কালো মেঘ চুইয়ে নেমে আসা অবিরাম জলধারায় জবুথবু দাঁড়িয়ে থাকা কদম বর্ষার সৌন্দর্যের অন্য নাম। মেঘের সঙ্গে মিতালি বলেই হয়তো এর আরেক নাম মেঘাগমপ্রিয়। আর নারীর সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা হয় বলে হয়তো এর আর একটা নাম ললনাপ্রিয়।
 
 
কিন্তু কী আশ্চর্য, অত্যন্ত মৃদু, প্রায় নেই বললেই চলে এমন সুগন্ধের জন্যও কদমকে ডাকা হয় সুরভি নামে! বৃত্তপুষ্প, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, প্রাবৃষ্য, সিন্ধুপুষ্প নামেও কদমের পরিচিতি আছে সংস্কৃত ভাষায়। ‘এসো নীপ বনে নবধারাজলে’ লিখে রবীন্দ্রনাথ কদমকে বাঙালি মননে স্থায়ী করে দিয়েছেন বর্ষার ফুল হিসেবে।

কদম ফুল সবাই পছন্দ করে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কদম ফুল নিয়ে খেলা করে। এ ফুল আমাদের দেশের সব এলাকায় দেখা গেলেও এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চলে, চীন ও মালয়ে। কদম নীপ নামেও পরিচিত। এছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি ইত্যাদি মনোহর সব নাম রয়েছে কদমের।

ছোট বলের মতো দেখতে এ ফুলের ভেতরভাগে রয়েছে মাংসল পুষ্পাধার। যাতে হলুদ রঙের পাপড়িগুলো আটকে থাকে। পাপড়ি মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগ। হলুদ-সাদা কদমফুল গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে দেখতে সুন্দর লাগে। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য খুব কম। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও কাগজ তৈরি হয়ে থাকে।

শুধু সৌন্দর্য নয়, ভেষজ গুণের পাশাপাশি কদমের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও। কাঠ দিয়ে কাগজ, দেয়াশলাই ছাড়াও তৈরি হয়ে থাকে বাক্সপেটরা। আর কদমের ছাল, পাতা কিংবা ফুলের রস পিপাসা নিবারণের পাশাপাশি কৃমি ও জ্বরনাশক এবং বলকারক।

তবে দুঃখের বিষয় সারা চাঁদপুরেই এখন আর আগের মতো কদম দেখা যায়না। সেই চিরচেনা হলুদ সাদার মিশ্রন খুব একটা চোখে পড়েনা।

নাগরিক উঠানে সেই কদমের ঘ্রাণ এখন অনেকটাই যেন অতীত। নেই আর আগের মতো বৈভব। আষাঢ়ে বৃষ্টি তো ছুঁয়েছে বৃক্ষ। তবে সেই রিমঝিম জলে কদমের কোমলতা যেন খুঁজে পাওয়া ভার। চোখ জুড়ানো ঘন সবুজ পাতার মাঝে হলুদ বন্ধুতায় চিরচেনা কদম গাছ এখন চোখে পড়ে কমই। তাই হয়তো বা শহরতলীজুড়ে কদমের শুভ্ররাগে হৃদয় রাঙিয়ে নেওয়ার সুযোগ নাগরিক অবসর কিংবা ব্যস্ততায় প্রায় নেই বললেই চলে। 

Post a Comment

0 Comments