চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে ‘অঙ্গীকার ভাস্কর্য’

চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশে লেকেরউপর স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের শহীদের স্মরণে ১৯৮৯ সালে  মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকার নির্মিত হয়। স্মৃতিসৌধটি নকশা করেন অপরাজেয় বাংলার শিল্পী প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।



চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস এমশামছুল আলমের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে দৃষ্টিনন্দন  ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়। জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোয় অঙ্গীকারকেঅপরূপ দেখায়। এর উদ্বোধক ছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।সিমেন্টপাথর আর লোহা দিয়ে তৈরি বেদীসহ এই ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট।এর দৃঢ় মুষ্ঠি-স্বাধীনতার স্বপক্ষে দৃঢ়তার প্রতীকআর অস্ত্রটি স্বাধীনতা অর্জন এবং তারক্ষার শক্তির প্রতীক। জনগণের দৃঢ়তার সাথে অস্ত্রের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি দৃঢ় অঙ্গীকার ‘অঙ্গীকার ভাস্কর্য’ চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে বিবেচিত।অঙ্গীকার’ বেদীতে প্রতিটি জাতীয় দিবসের সূচনায়আত্মোৎসর্গীকৃত বীর শহীদের প্রতিশ্রদ্ধা জানানো হয়।


মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২৮ মার্চ থেকে  এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর শত্রু মুক্ত হতে থাকে।  এপ্রিল সকাল ৯টায় পাক হানাদার বাহিনী প্রথম চাঁদপুরের পুরাণবাজারে বিমান হামলা চালায়। চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদারবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এদের মধ্যে বাবুরহাটটেকনিক্যাল হাইস্কুলবাখরপুর মজুমদার বাড়িফরিদগঞ্জ-এর গাজীপুর ওটতলীনামক স্থান অন্যতম। ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১০টায় চাঁদপুর সম্পূর্ণরূপে শত্রু মুক্ত হয়।


বলা হয়, ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাসের ফলে ১৮৭৮ সালে প্রথম চাঁদপুর মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৯৬ সালের  অক্টোবর চাঁদপুরশহরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

Post a Comment

0 Comments