দেশব্যাপী এমনকি বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি হচ্ছে মানুষখেকো ও বিষাক্ত পিরানহা মাছ

দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত পিরানহা মাছ। এটি মানুষখেকো ও বিষাক্ত হওয়ায় বিশ্বর অনেক দেশেই এটি ক্রয় বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাংলদেশে ও এই বিষাক্ত পিরানহা মাছ ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ। 


যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের এক পাশে সামুদ্রিক রুপচাঁদা মাছ বলে পিরানহা বিক্রি করছিলেন এক মাছ বিক্রেতা। দিনমজুর আবদুল হামিদ এসেছিলেন মাছ কিনতে। মাছের কেজি কত জানতে চাইলে বিক্রেতা তাঁকে বলেন, একদম তাজা ‘সামুদ্রিক চান্দা’, ২০০ টাকা কেজি। দরদাম করে হামিদ কিনলেন ১৫০ টাকা কেজিতে।

কী মাছ কিনলেন, জানতে চাইলে হামিদ উত্তর দিলেন—সমুদ্রের চান্দা। তাঁকে যখন বলা হলো এটা চান্দা নয়, রাক্ষুসে পিরানহা, তিনি সে কথায় কান না দিয়ে ঘরের পথে দ্রুত হাঁটা দিলেন।

যদিও এটি কিছু দিন আগের ঘটনা।

অনেকেই জানেন না, অনেকটা রুপচাঁদা মাছের মতো দেখতে এই মাছের নাম পিরানহা। সরকার পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুরের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এই নিষিদ্ধ মাছ প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছ সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাক্ষুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তিনি জানান, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পিরানহা এবং ২০১৪ সালের জুন থেকে আফ্রিকান মাগুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

অনুসন্ধান করে এবং মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ভালুকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চলের ডোবা বা পুকুরে পিরানহার উৎপাদন ও চাষ করা হচ্ছে। আর আফ্রিকান মাগুরের চাষ হচ্ছে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত জলাশয়, ডোবা, নালায়। বিক্রির উপযুক্ত হলে ট্রাকে করে এসব মাছ রাজধানীর বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে আনা হয়। পিরানহা বাজারভেদে ১৫০-২০০ টাকা কেজি ও আফ্রিকান মাগুর বাজারভেদে ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়ত, কারওয়ান বাজার ও সোয়ারীঘাট মৎস্য আড়ত, তেজগাঁও বাজার, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজার থেকে ঢাকার মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে কিছু অসাধু বিক্রেতা এসব মাছ বিক্রি করছেন। সাধারণত নিম্নমধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত ক্রেতারা এসব মাছের ক্রেতা। দেশি বা থাই রুপচাঁদা কিংবা ‘সামুদ্রিক চান্দা’ নামে পিরানহা আর দেশি মাগুর বলে ছোট আকারের আফ্রিকান মাগুর বিক্রি করা হয়।

Post a Comment

0 Comments