করোনাই কি মৃত্যুর একমাত্র কারন ??

জীবনের সবচেয়ে চিরন্তন সত্যিটি হচ্ছে মৃত্যু। সবাইকেই চলে যেতে হয়। সৃষ্টিকর্তা ভালোবেসে পাঠান আবার তিনিই নিয়ে যান। এই সত্যিকে অবিশ্বাস করার কোন কারন নেই। 
কিন্তু করোনাকালীন সময়ে মানুষের মৃত্যু যেই পরিস্হিতিতে দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হতেই পারে শুধু করোনাতেই যেনো মৃত্যু হয় আর কিছুতেই কি মৃত্যু নেই। করোনার মৃত্যুতেই মানুষ আতংকিত হয়। করোনা হলেই মানুষ ঘৃণা করে অতি আপনজনকেও ভুলে যায়। 

যে কারনে আমরা আমাদের প্রিয় জনকে দূরে ঠেলে দেই। মৃত্যুর মতো অন্তিমকালে আমরা প্রিয়জন কিংবা প্রতিবেশীর কাছে যাই না। বৃদ্ধ বাবা মা কে দূরে ঠেলে দেই। কেউ কাউকে সাহায্য করিনা কাছে আসিনা। 

জাতীয় তথ্য বাতায়নের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে মারা যায় ২৫৬০ জন মানুষ। এদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মারা যায় অসংক্রামক রোগে মানে যে সকল রোগ ছোঁয়াচে নয়, ২৪ শতাংশ মারা যায় বার্ধক্যের কারনে, বাকিরা সড়ক দুর্ঘটনায় অথবা মা হতে গিয়ে বা শিশু অবস্হায়।

১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন ২০২০, দেশে মোট মৃত্যু ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭১৩ জন। ৮ মার্চ ২০২০, বাংলাদেশে প্রথম করোনা রুগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী মারা যান। 

১৮ মার্চ থেকে ২৫ জুন এই ১০০ দিনে বাংলাদেশে মোট মৃত্যু ২ লক্ষ ৫৬ হাজার। এদের মধ্যে হৃদরোগে মারা গেছেন ৭০ হাজার ১৩৭ জন। বার্ধক্য জনিত কারনে ৬০ হাজার জন। ক্যান্সারে ৪১ হাজার ৯৬ জন। স্ট্রোকে মারা গেছেন ৩৫ হাজার ১২০ জন। ফুসফুস জনিত রোগে মারা গেছেন ১৮ হাজার ৭৫৬ জন। যক্ষ্ণায় মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৩৮ জন। নিউমোনিয়ায় ১৩ হাজার ৬৩৮ জন। ডায়াবেটিসে ১০ হাজার ৯৯৬ জন। ডায়রিয়া জনিত অসুখে ৮ হাজার জন। 

এমনকি লক ডাউনে একমাসে ( ২৬ মার্চ - ৫ মে )  যখন যানবাহন প্রায় না চললেও ডড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২১১ জন মানুষ। আর এই ১০০ দিনে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ১৫৮২ জন।২ লক্ষ ৫৬ হাজারের মধ্যে ১৫৮২ জন।

মৃত্যু সবসময় দুঃখের বেদনার। কিন্তু ত অমোঘ যার যখন সময় তাকে চলে যেতে দিতে হবেই। করোনাভাইরাসে যারা মৃত্যুবরন করেছেন তাও অনেক বেদনার।

কিন্তু মোট মৃত্যুর তুলনায় করোনাভাইরাসের কারনে মৃত্যুর হার কতোটুকু ? যতোটা আমরা আতংকিত হচ্ছি। করোনা আক্রান্ত হলেই প্রিয়জনকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি।

তাই আসুন আতংকিত নই সকলে সতর্ক হই। স্বাস্হ্যবিধি মেনে ফিরে আসি কর্মচঞ্চল স্বাভাবিক জীবনে। 

Post a Comment

0 Comments