"হায়া সোফিয়ার বৈচিত্র্যময় ইতিহাস "

৮৬ বছর পর আযান হলো হায়া সোফিয়ায়। গত ১০ জুলাই তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় মসজিদ হিসাবেই থাকবে হায়া সোফিয়া। যেটি নিয়ে খ্রিস্টানদের দাবি ছিল— এটি প্রথমে গির্জা ছিল তাই হায়া সোফিয়ার উপর তাদের অধিকার। আর মুসলমানদের দাবি ছিল — বহু বছর এটি মসজিদ ছিল, তাই এরূপেই থাকবে হায়া সোফিয়া।



গ্রিক শব্দ হায়া অর্থ পবিত্র, সোফিয়া অর্থ জ্ঞান। জেরুজালেম, বাইতুল মোকাদ্দাসের পর খ্রিস্টানদের কাছে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থান এটি। প্রায় ১৫০০ বছরের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হায়া সোফিয়া। কখনও গির্জা, কখনও মসজিদ, আবার কখনও জাদুঘর; কখনও রোমান, কখনও অটোমান, বর্তমান তুরস্ক ; প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ,আধুনিক যুগ, যেন একাই সাক্ষী পৃথিবীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের।

৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান স্থাপনাটি নির্মিত হয় বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের হাত ধরে। ৫৩৭-১২০৪ সাল পর্যন্ত ব্যবহ্নত হয় অর্থোডক্স গির্জা হিসেবে, তারপর ১২০৪-১২৬১ ছিল ক্যাথেলিক গির্জা, আবার ১২৬১-১৪৫৩ পর্যন্ত অর্থোডক্স। ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল জয় করলে, অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ এটিকে মসজিদে পরিনত করেন। মুছে ফেলা হয় গির্জার অনেক চিহ্ন, নাম হয় ইম্পেরিয়াল মসজিদ যেটি ১৬১৬ সাল পর্যন্ত ছিল তুরস্কের প্রধান মসজিদ। তারপর ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক জাদুঘরে রূপান্তরিত করেন হায়া সোফিয়াকে। সর্বশেষ রিসেফ তায়েফ এরদোয়ানের হাত ধরে আবারও মসজিদে পরিনত হয় এটি।

UNESCO ১৯৮৫ সালে হায়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতি বছর ৩৭ লাখ দর্শক দেখতে আসেন এই সুন্দর, মনোরম ও প্রাচীন স্থাপনাটি।

Post a Comment

0 Comments