আগামী সপ্তাহে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শুনেই ডায়রিয়া হলো মতলবে দুই ছাত্রীর

করোনা পরিস্হিতির কারনে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


সরকার ঘোষনা দিয়েছেন ছাত্র ছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যৎ তাই তাদের নিয়ে কোন ধরনের রিস্ক নিতে রাজি নন বর্তমান সরকার। তাই যতোদিন না এই পরিস্হিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততোদিন খুলছে না দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তবে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তার কারন দেশের সব জায়গায় এখনো সমানভাবে অনলাইন সুবিধা নেই।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো দীর্ঘ সময় কখনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলোনা। তাই এতো দীর্ঘ বন্ধ পেয়ে ছাত্র ছাত্রীরা কেউ কেউ পড়াশুনা ভুলে যেতে বসেছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, মতলবের ছাত্র ছাত্রীরা করোনা পরিস্হিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা সবাই ব্যাপক খুশি। সকল স্বাস্হ্যবিধি মেনেই মতলবের শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ বন্ধ উপভোগ করছেন।

কোনো কোনো শিক্ষার্থী নাকি ভাবছেন এই বৎসর সহ আগামী বৎসর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তাদের কোনো সমস্যা নেই। বাসায় খুব ভালো বন্ধ কাটাচ্ছেন তারা। দারুন উপভোগ করছেন এই দীর্ঘ বন্ধ।

সকল শিক্ষার্থীর সাথে তাল মিলিয়েই বন্ধে দারুন সময় কাটাচ্ছিলেন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মতলবের দুই ছাত্রী বান্ধবী। তারা দুইজন একই স্কুলে পড়েন এবং এই দুই বান্ধবীর বাসা ও পাশাপাশি। তাই স্কুল বন্ধের পর থেকেই পড়াশুনা ভুলে দু’জন মিলে বিভিন্ন ভাবে সময় কাটান। টিভিতে সিনেমা,গান, নাটক দেখার পাশাপাশি বিকেলে বাড়ির ছাদে বসে পশ্চিমা আকাশে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন।

বাড়িতে ফুল গাছের পাশাপাশি ফল গাছ থাকায় এই দীর্ঘ বন্ধে মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল খেয়েও স্কুলের বন্ধ বেশ উপভোগ করছিলেন মতলবের এই দুই ছাত্রী বান্ধবী।

এই দুই বান্ধবী ভাবছিলেন হয়তো এ বৎসর আর তাদের স্কুল খুলবেনা তাই তাদেরও স্কুলে যেতে হবেনা কমপক্ষে আরো ছয় মাস তারা এভাবে স্কুলের এই দীর্ঘ বন্ধ উপভোগ করতে পারবেন।

তবে গত শনিবার ঘটে এই দুই বান্ধবীর জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা। দুই বান্ধবী যখন বাসার ছাদে সূর্যাস্ত উপভোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনি বাসার ছাদে এসে উপস্হিত হন শরিফ নামের তাদের এক স্কুল বন্ধু। শরিফ ছাদে এসেই বললো সব শেষ আাগামী সপ্তাহেই খুলে দিচ্ছে সকল স্কুল কলেজ। আর খোলার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে সকল ক্লাস পরীক্ষা সাথে হয়ে যেতে পারে টেস্ট পরীক্ষাও।

এ কথা শুনার পরেই দুই বান্ধবী খুব রেগে গিয়ে বলেন তুই মিথ্যে বলছিস। আরো বলে তুই এটা আমাদের বললি কেনো ? আমাদের সব মজা সব কল্পনা ধ্বংস করে দিলি। তুই এখনি চলে যা বাসা হতে।

শরিফ যাওয়ার সময় বললো আমিতো সত্যিই বললাম তোরা রেগে যাচ্ছিস কেনো। ঠিকাছে আমি চলে যাচ্ছি বলেই ছাদ থেকে চলে গেলো শরিফ।

দুই ছাত্রী বান্ধবীর এখন আর কিছু ভালো লাগছেনা আজ সূর্যাস্ত দেখতেও ইচ্ছে হচ্ছেনা। এক বান্ধবী বলে উঠলো চল টিভিতে গিয়ে দেখি আসলেই এ কথা সত্যি কিনা ? দুই বান্ধবী সাথে সাথে রুমে যায় দৌড় দিয়ে। কিন্তু গিয়ে দেখে বিদ্যুৎটা নেই মানে লোডশেডিং হয়েছে।

এক বান্ধবী বলে উঠলো আমার ভাতরুম পাচ্ছে আমি একটু টয়লেট থেকে আসি। ঐ বান্ধবী টয়লেটে না যেতেই আরেক বান্ধবী টয়লেটের দরজায় জোরে আঘাত করতে লাগলো আর বলতে লাগলো তারাতারি বেড়িয়ে আয় আমারও ভাতরুমে যেতে হবে।

এভাবে বারবার আসা যাওয়া করতে করতে দুই বান্ধবী ক্রমশ দূর্বল হয়ে যায় এবং রাত আটটা নাগাদ তাদের পরিস্হিতি ভালো না হওয়ায় পরে মতলব ডায়রিয়া হাসপাতালে দুই বান্ধবীকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে ডাক্তারি চিকিৎসায় দুই বান্ধবী কিছুটা সুস্হ্য হয়ে বাসায় ফিরে।

Post a Comment

0 Comments