চাঁদপুরে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপের আনাগোনা

চাঁদপুরে গত কিছুদিনে বেশকিছু বিষাক্ত

রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়ছে। একটি ধরা পরে হাইমচরে এবং আরেকটি ধরা পরে চাঁদপুর বড় স্টেশনে  আরো কয়েকটি মেরে ফেলা হয়। এবং কয়েকটি প্রশাসন  বন-বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।



ধারণা করা যাচ্ছেউত্তরাঞ্চলের পানি মেঘনা হয়ে নেমে আসার সময় সাপগুলো স্রোতে চাঁদপুরে চলে আসতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে এতোগুলা সাপ ধরা পড়ায় জনমনে আতংক ছড়িয়েছে।


সাপ নামটি শুনলেই যেন গা শিউরে ওঠে। আর এটা যদি হয় কোনো বিষধর সাপ তা হলে তো কথাই নেইভয়ের মাত্রাটা যেনবেড়ে যায় কয়েকগুণ। এমনই একটি ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার (Russell’s Viper) বৈজ্ঞানিক নাম উধনড়রধ Daboia Russelii. স্থানীয়ভাবে চন্দ্রবোড়া বা উলু বোড়া নামে পরিচিত হলেও রাসেল ভাইপার নামেই অধিক পরিচিত। এরাভাইপারিডি পরিবারভুক্ত। এটি আমাদের দেশে দুর্লভ। কালে ভদ্রে এদের দেখা মেলে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়এর দেখা মিলছে!


চন্দ্রবোড়া সাপ পশ্চিমবঙ্গ  বাংলাদেশের দুর্লভ সাপ। এটি পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়  বাংলাদেশের সব বিভাগে সচরাচর এবং ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বিশেষ করে নদীয়া বর্ধমান  উত্তর চব্বিশ পরগনা বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার গ্রাম অঞ্চলে এইসাপ ভয়ের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে  সাপ বেশি পাওয়া যায়। রাসেল ভাইপার ভারত বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। 


নদীয়া জেলাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে এছাড়াও ভারতপাকিস্তাননেপালভুটানশ্রীলংকাচীনের দক্ষিণাংশতাইওয়ানথাইল্যান্ডবার্মা  ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়।


 সাপের দেহ অনেক মোটাসোটা। লেজ ছোট  সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ .মিটার।


সাপ বিষারদরা জানানঅন্যান্য সাপ মানুষকে এড়িয়ে চললেও  সাপটি স্বভাব ঠিক তার উল্টো। তাই প্রতিবছরইউল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কেবল  সাপটির কামড়েই প্রাণ হারান। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি  বিষের তীব্রতার কারণে কিলিংমেশিন হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির।


তীব্রতার দিক দিয়ে  সাপটি বিশ্বের  নম্বর ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ। মাত্র  সেকেন্ডের ১৬ ভাগের  ভাগ সময়ে কাউকে কামড়েবিষ ঢালতে পারেতাই কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে ছাড়িয়ে রাসেল ভাইপার প্রথম স্থান দখল করে আছে। সাপটির বিষ দাঁত বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ।


 সাপের কোনো অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। বলা যায়এর এক ছোবলেই মৃত্যু নিশ্চিত। কারণ রাসেল ভাইপারে কামড়েছে অথচ বেঁচে গেছেন এমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। আবার কেউ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এই সাপের বিষহেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাই সাপটির কবল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র পথ।


পৃথিবীতে প্রতি বছর যত মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ রাসেল ভাইপারের কামড়ে মারা যায়। সাপের কোনো অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। বলা যায়এর এক ছোবলেই মৃত্যু নিশ্চিত। কারণ রাসেল ভাইপারেকামড়েছে অথচ বেঁচে গেছেন এমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। আবার কেউ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এই সাপের বিষহেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাই সাপটির কবল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র পথ। এইসাপ সবচেয়ে বিষাক্ত  এর অসহিষ্ণু ব্যবহার  লম্বা বহর্গামী (Solenoglyphous) বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিতহন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্য হতে পারে। তবে অধিকাংশক্ষেত্র ভয়ে হার্ট অ্যাটাক মৃত্যুর কারণ।


লুপাস অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট নামে গর্ভপাতকারী এক রোগ নির্ধারণের পরীক্ষায় (ডাইলিউট রাসেল ভাইপার ভেনমটাইম টেস্টচন্দ্রবোড়ার বিষ ব্যবহৃত হয়।


এরা অনেক জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে। এরা নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত জায়গায় কিছুটা শুষ্ক পরিবেশেবাস করে। খাদ্য হিসেবে ইঁদুরছোট পাখিটিকটিকি  ব্যাঙ খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরা শিকারের সময় প্রাণীকে কামড় দিয়েছেড়ে দেয়।


রা বছরের যেকোনো সময়- প্রজনন করে। সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়াসাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো চন্দ্রবোড়া সাপের ৭৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়ার রেকর্ড আছে।


Courtesy: Fatema Yesmin Rakhi

Post a Comment

0 Comments