মৌসুমের শুরুতেই ধরা পড়ছে বড় ইলিশ, কিন্তু দাম বেশি

ঝালকাঠিতে মৌসুমের শুরুতেই ধরা পড়ছে বড় আকারের ইলিশ মাছ। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় আকাশ ছোঁয়া দাম। জেলা শহরের পূর্বচাঁদকাঠি বাজারে পাওয়া যায় সুগন্ধার ইলিশ। প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরে এখানে সরবরাহ করেন।

রোববার (০৫ জুলাই) বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেড় কেজি আকারের ইলিশ খুচরা ১৫’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১০ ইঞ্চির বড় ইলিশ ৫ থেকে ৬’শ টাকা এবং আধা কেজির বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হয় ৮ থেকে ৯’শ টাকা কেজি দরে।

মাছ বিক্রেতা মধু পান্ডে জানান, সুগন্ধায় আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। তাই মাছের সরবরাহ কম। আর সে কারণে দাম একটু বেশি। তবে যে সময়টা নদীতে বেশি ইলিশ পাওয়া যায়, সে সময় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে বলে জানান মধু পান্ডে।

ঝালকাঠি জেলা শহর ছাড়াও নদীর তাঁজা ইলিশ বিক্রি হয় জেলা রাজাপুর, নলছিঁটি ও কাঁঠালিয়া উপজেলার মাছ বাজারগুলোতে।

সুগন্ধা নদী জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত। এছাড়া বিশখালি নদী রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় পড়েছে। বিশখালি নদীতেও ১২ মাস ইলিশ ধরা পড়ে।

রাজাপুর উপজেলার মানকী সুন্দর গ্রামের বিশখালি পাড়ের জেলে নজর আলী বলেন, ঝালকাঠি জেলার মধ্যে সবচে বড় আকারের এবং বেশি ইলিশ পাওয়া যায় বিশখালি নদীর মোহনায়। এ নদীতে গড়ে প্রতিদিন ৪০ কেজি ইলিশ আহরণ করেন স্থানীয় জেলারা। আর সে হিসেবে জেলার ৪ উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে এক’শ থেকে দেড়’শ কেজি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম বলে জানান তিনি।

বাজার ঘুরে আরও জানা গেছে, জেলার চাহিদা মেটাতে বরগুনা ও বরিশাল থেকে ঝালকাঠির বাজারগুলোতে ইলিশ আমদানি করা হয়। কিন্তু ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিশখালির ইলিশের তুলনায় তা সু-স্বাদু নয় বলে স্থানীয়দের প্রধান চাহিদা ঝালকাঠির ইলিশের প্রতি। দামেও অনেক কমে আমদানি করা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শহরের সুগন্ধা পাড়ের জেলে পাড়ার মাছ বিক্রেতা কানাই লাল মালো বলেন, বরগুনা, পাথরঘাটা, ভোলা ও বরিশালের ইলিশ নোনা স্বাদের। সমুদ্র নিকটবর্তী হওয়ায় এসব জেলার থেকে আসা মাছগুলো লবণাক্ত স্বাদের। কিন্তু ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিশখালি নদী সমুদ্র থেকে অনেক দূরবর্তী। তাই এখানকার নদীর পানি মিঠা স্বাদের। সেই সাথে নদী-পাড়ে কল-কারখানা না থাকায় ঝালকাঠির ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে বেশি।

ইলিশ নিয়ে কথা হয় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝার সাথে। তিনি বলেন, ঝালকাঠি আসলে ইলিশের পকেট জেলা। ইলিশ মাইগ্রেট (অভিপ্রায়ণ) প্রজাতির মাছ। ডিম ছাড়তে সমুদ্র থেকে মিঠা পানির নদীতে আসে। কিন্তু সমুদ্র থেকে ঝালকাঠি পৌঁছানোর পূর্বেই ভোলা, বরগুনা এবং বরিশালেই বড় অংশ ধরা পড়ে। সেখান থেকে কিছুটা অংশ ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিশখালিতে আসার সুযোগ পায়। গত বছর এ জেলায় ১ হাজার ৫৮ মেট্রিকটন ইলিশ আহরণ হয়েছে। স্থানীয় এবং আশপাশের জেলা থেকে আমদানি করা ইলিশ দিয়ে জেলার চাহিদা পূরণ হয়। এ জেলায় মাথাপিছু মাছের ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, ১২ মাসই ঝালকাঠির নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। মোট ৫ হাজার ২৬৫ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৪ জনকে ৪ মাস ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে প্রণোদনা হিসেবে খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বাংলা আশ্বিণ মাসের ভরা পূর্ণিমার আগের দিন থেকে মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়টাও ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। আর সে সময়য়েও ইলিশ জেলেদের প্রণোদনা দেয়া হয়। এছাড়া ইলিশের পোনা হিসেবে পরিচিত ঝাটকা আহরণ বন্ধ থাকে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। এ সময় ১০ ইঞ্চির কম আকারের ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। 


অপরদিকে মার্চ ও এপ্রিল এই মাস দেশের ভিভিন্ন জেলায় ইলিশের অভায়াশ্রম হিসেবে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। তবে ঝালকাঠি অভয়াশ্রমের আওতায় পড়েনি। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। এসময় চাহিদার প্রায় পুরোভাগই  ঝালকাঠির নদী থেকেই সংগ্রহ হয় বলেও জানান ও  মৎস্য কর্মকর্তা। 

Post a Comment

0 Comments