প্লাস্টিক দূষণের কারনে প্রতি বছর মারা যায় লাখো পাখি

বিশ্বে প্রতি বছর ৫ ট্রীলিয়ন প্লাস্টিক বেগ ব্যবহার করা হয়। প্রতি মিনিটে প্রায় ২ মিলিয়ন এবং সেকেন্ডে ১৬ লাখ পিস।

প্রতিটি প্লাস্টিক ব্যাগ গড়ে ১২ মিনিটের জন্য ব্যবহৃত হয়। এরপর এর অধিকাংশই ফেলে দেওয়া হয় এবং ১% এরও কম রিসাইকেল করা হয়। প্রতি বছর উৎপাদিত ১০% প্লাস্টিক সমুদ্রের গিয়ে জমা হয়। যার ৭০% সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়, যেখানে এটি সম্ভবত কখনই হ্রাস পাবে না। এসব প্লাস্টিকের দ্বারা বছরে অন্তত ১০ হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। প্রায় ১ মিলিয়ন সামুদ্রিক পাখিও প্লাস্টিক দূষণ কারণে মারা যায়। এছাড়া, সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমন, প্রজনন অপর্যাপ্ততা বা তীব্র বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

প্লাস্টিক শুধু পরিবেশ ও প্রাণীদের জন্য নয়, মানুষের জন্যও হুমকির উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, পলিথিনে মোড়ানো খাবার খাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকারক, এটি স্পষ্টতই ক্যান্সার, চর্মরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার মাধ্যম। এছাড়া, কোভিড - ১৯ ভাইরাস প্লাস্টিক ব্যাগ এবং অন্যান্য একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিকের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ওয়েবিনারে কেনিয়া থেকে পরিবেশ বিচার ও উন্নয়ন কেন্দ্র-সিইজেএডির প্রোগ্রাম সমন্বয়ক গ্রিফিনস ওচিয়াং; ব্রাসেলস থেকে ইইউ বিষয়ক প্রজেক্ট ম্যানেজার গায়েল হাট, গায়া ফিলিপাইন এবং এশিয়া প্যাসফিকি কোঅর্ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক ফ্রলান গ্রেট এবং , বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মোঃ জিয়াউল হক, এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা ও মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। এতে বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবাদীরা প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ, নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের উপর জোর দেন। 

এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মাধ্যমে যুব প্রতিনিধিদের প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা এবং পরবর্তীতে প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবেশ বান্ধব বিকল্প গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বৃহত্তর প্রভাব বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ, নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণসহ সকল অংশগ্রহণকারীকে বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী তাৎক্ষণিক ভাবে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ আইন কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।

Post a Comment

0 Comments