অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে "জিরো হাঙ্গার ফাউন্ডেশন"


অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত এবং মানবিক কর্তব্য।বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রভাবে যখন মানুষ গৃহবন্দী আর অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য করোনার পাশাপাশি ক্ষুধার সাথেও যুদ্ধ করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের।এমন প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উত্তম নেক আমল এটিই। 


এই পরিস্থিতিতে মানবতার দাবী পূরণে এগিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাজিরা উপজেলার জোবায়ের আহমেদ সজিব।নিজ এলাকা জাজিরা উপজেলাতে করোনার দূর্যোগ মোকাবেলায় গড়ে তুলেছেন কয়েকটি সংগঠন, প্রথমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম,পরবর্তীতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনের মাধ্যমে। 


করোনার কারণে অসহায় হয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক উদ্যোগে প্রচুর ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, অধিকাংশ ত্রাণই দেয়া হয় শহরের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়। অথচ গ্রাম-গঞ্জে বিশাল একটি অংশ পড়ে আছে চোখের আড়ালে। যাদের নিজেদের না আছে সহায়-সম্বল, না পারছে কাজ করতে, না পাচ্ছে কোনো সহযোগিতা।


সে কারণেই গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তালিকা সংগ্রহ করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন দ্বারে দ্বারে।কাউকে লাইনে দাঁড়াতে হয়নি, তেমনি ছবি তোলার বিড়ম্বনায় বিব্রত ও হতে হয়নি কাউকে।





কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে জোবায়ের আহমেদ সজিব বলেন,প্রথম পর্যায়ে জাজিরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিম গঠন করে তার মাধ্যমে প্রায় ৫০০পরিবারে সাবান বিতরণ করে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে আরো দুই শতাধিক পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয় জরুরী খাদ্য পণ্য। 


নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করার লক্ষ্যে পরবর্তীতে গঠন করি জিরো হাঙ্গার ফাউন্ডেশন। এই সংগঠনের উদ্যোগে খুঁজে খুঁজে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি হটলাইন সার্ভিস চালু করেছি।এখানে কেউ খাদ্য সামগ্রীর অভাব জানিয়ে ফোন করলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা মোটরসাইকেল যোগে তৎক্ষনাৎ পৌঁছে দেয় খাদ্য সামগ্রী ।এই সংগঠনের মাধ্যমে প্রথমে দেড় শতাধিক পরিবারে চাল,ডাল,তেল,লবন,আটা,আলু সহ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেই। পরবর্তীতে আমাদের অভিভাবক, লে.কর্ণেল ইমরুল হাসান( জসিম) এর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং বেক্সিমকো ফার্মার সহযোগিতায় প্রায় ২০০ অসহায় বন্যার্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করি।




জিরো হাঙ্গার ফাউন্ডেশনের অন্যতম সদস্য টুটুল জানান, আমাদের কাছে হট লাইন সার্ভিসে ফোন আসা মাত্রই যতদ্রুত সম্ভব খাদ্য সামগ্রী নিয়ে গরীব অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।


জিরো হাঙ্গার ফাউন্ডেশনের আরেক সদস্য শরীফ জানান, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  প্রবল ঝর বৃষ্টি ও উন্মুক্ত পদ্মার ঢেউ উপেক্ষা করে খাদ্য সামগ্রী চরাঞ্চলে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌছিয়ে দেই।


এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সজিবের ভরসা ছিল মহান আল্লাহর দয়ার ওপর।যেমনটা তার স্লোগানে প্রকাশ পেয়েছে," আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক এসেছে, আপনি গ্রহণ করুন"।তেমনটাই জানিয়ে তিনি প্রথমত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন,এবং অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে যারা এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবে রুপ দিয়েছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


এই পরিশ্রমসাধ্য কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের আগ্রহে অভিভূত সজিব আশাবাদী,বাংলাদেশে ভালো কাজ করার মতো ভালো মানুষ বহু আছেন।তারা একসাথে  কাজে নামলে বদলে যাবে দেশ।দূর হবে দারিদ্র্য।

Post a Comment

0 Comments