কিন্তু শেষ পর্যন্ত গরু বিক্রি করতে পারেননি হাওরপাড়ের অনেক খামারি

কোরবানির ঈদের আগের দিন শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গরু বিক্রি করতে পারেননি হাওরপাড়ের অনেক খামারি।



সুনামগঞ্জে শহরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসেছিল সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে (বালুর মাঠ)। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক খামারি হতাশা নিয়ে হাট থেকে ফিরে গেছেন।

মল্লিকপুরের কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ভেবেছিলাম গরুটা বিক্রি করে ডালভাত জোগাড় করবো। কিন্তু, বৃথা হলো। পানির দামে গরু বিক্রি হচ্ছে। আমার গরুটা বিক্রি করতে পারলাম না। জানি না কীভাবে ঈদ কাটাবো।’

হাটে তিনটি গরু নিয়ে এসেছিলেন তাহিরপুরের শ্রীপুর এলাকার সাজেন মিয়া। বাধ্য হয়ে প্রায় অর্ধেক দামে দুটি গরু বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের বন্যায় আমরা অভ্যস্ত। মোটা চালের ভাত ও আলু সেদ্ধ খেয়ে দিন কাটাই। আমার তিনটি গরু কোরবানি ঈদে বিক্রি করবো বলে সারা বছর যত্ন করেছি। কিন্তু গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পানির দামে দুটি গরু বিক্রি করতে বাধ্য হলাম।’

দুটির দাম ৮০ হাজারতো হবেই’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। একটি গরু ফেরত আনতে হয়েছে।’

করোনা ও তিন দফা বন্যার কারণে হাওরপাড়ের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলের অনেকেই ঈদের আগে ধান বিক্রি করে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। তবে, এ বছর ধানের ভালো দাম না পাওয়ার কারণে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন গরু বিক্রেতা আমজদ আলী।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতারা গরুর দাম অনেক কম হাঁকছেন। তাই আমাদের আসল দাম ওঠানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি না পারতে গরু বিক্রি করেছি। লাভ করতে পারিনি।’

কেবল বিক্রেতা নন, হাটের পশু কেনাবেচা নিয়ে হতাশ হাওরপাড়ের ইজারাদাররাও।

শহরের বালুর মাঠ হাটের ইজারাদার ওয়াসিম মিয়া বলেন, ‘আমরা যা আশা করেছিলাম, সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। অনেক বিক্রেতা দাম না পেয়ে গরু নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। বিক্রি নিয়ে আমরাও বেশ হতাশ।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা আমাদের হাই অফিশিয়ালকে গো-খাদ্যে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে একটি আবেদন পাঠিয়েছি।’

Post a Comment

0 Comments