লাভ তো দূরের কথা, সারাজীবনের জমানো টাকাগুলোও শেষ হয়ে গেল বন্যায়

 জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার সাতটি উপজেলার তিন হাজার ৫১১ জন খামারির চার হাজার ৯৩১টি মৎস্য খামার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন মাছ ও পাঁচ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩৮০ মেট্রিক টন মাছের পোনা ভেসে গেছে। এ ছাড়া, যেসব পুকুরের পাড় ভেঙেছে তা ঠিক করতে লাগবে কমপক্ষে আরও তিন কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।


এবারের বন্যায় মানিকগঞ্জে মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মাছ ও মাছের পোনা বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এবং পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় তিন হাজার ৫১১ জন মৎস্যখামারির এই ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বান্দুটিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমার পুকুরের দুই লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ৮০টি বানা ও জাল দিয়েও ঠেকাতে পারি নাই। এখন হাতে কোনো টাকা নেই। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ঘুরছি। তাও পেতে কতদিন লাগে কে জানে?’

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটগ্রাম ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সোলায়মান খান বলেন, ‘আমি তিন লাখ টাকার বিনিময়ে এক বছরের জন্য চারটি পুকুর ভাড়া নিয়েছি। রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন ধরনের আট লাখ টাকা মূল্যের মাছের পোনা কিনে পুকুরে ছেড়েছি। সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের বড় মাছও ছিল। বন্যার পানিতে সব মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। পুকুরের পাড়ও ভেঙে গেছে। সেটাও ঠিক করতে লাগবে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। বড় আশা করছিলাম এবার একটু লাভের মুখ দেখব। কিন্তু, লাভ তো দূরের কথা, সারাজীবনের সঞ্চিত টাকাগুলোও শেষ হয়ে গেল।’

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বাঘিয়া গ্রামের মৎস্যখামারি আল ইমরান খান, হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের কাণ্ঠাপাড়া এলাকার দেওয়ার আব্দুর রবসহ জেলার তিন হাজার ৫১১ জন মৎস্যখামারির স্বপ্ন ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। সব হারিয়ে এখন দিশেহারা তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এসব মৎস্যখামারিরা। সরকার যদি তাদেরকে সহযোগিতা করে, তাহলেই কেবল তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। অন্যথায়, এই ক্ষতি সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব। এমনটিই জানান তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. মুনিরুজ্জমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় মোট ১৪ হাজার  ৪৭৯টি পুকুর আছে। এর মধ্যে চার হাজার ৯৩১টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে এবং পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে। এতে তিন হাজার ৫১১ জন মৎস্যখামারির ৪২ কোটি ২২ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্দেশনা বা সহযোগিতার পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

Post a Comment

0 Comments