রোনালদোকে নাকি বার্সেলোনায় বিক্রি করতে চায় জুভেন্টাস!

 বছরে ৩১ মিলিয়ন ইউরো। এতো পরিমাণ বেতন দিয়েও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি দলটির। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ের মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ক্লাবটি বেশ আর্থিক সংকটে পড়েছে। সবমিলিয়ে তাই এবার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে বেচে দিতে চাইছে জুভেন্টাস। বেশ কয়েকটি ক্লাবকেই রোনালদোকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনাও! বিবিসি ৫ রেডিওর লাইভ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগি।


মূলত কোভিড-১৯ মহামারিই বদলে দেয় সব। এ সময়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব ক্লাবই। তাই রোনালদোর উচ্চ বেতন থেকে মুক্তি পেতে চাইছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। তাই একসময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল বার্সেলোনাতেও তাকে রোনালদোকে বিক্রির চিন্তা করছে জুভেন্টাস। লাইভে বালাগি বলেন, 'তাকে (রোনালদো) সব জায়গায় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এরমধ্যে রয়েছে বার্সেলোনাও।'

আর কেন তাকে বিক্রি করতে চাইছে তার ব্যাখ্যাও দিয়ে আরও বলেন, 'সে যে পরিমাণ আয় করে তাতে আমি নিশ্চিত না তারা এতো সহজে এ থেকে মুক্তি পাবে কি-না। আসলে সে এখনও ২৩ মিলিয়ন ইউরো আয় করে। যেটা সে রিয়ালে থাকতে আয় করতো তার সমান। তার এতো টাকা কারা পরিশোধ করতে পারবে?'

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য রোনালদোর পিএসজিতে যাওয়ার গুঞ্জন ছিল চড়া। এর আগে রিয়ালে ফেরার গুঞ্জনও উঠেছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ রোনালদোকে ফেরানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বলে জানান এ সাংবাদিক, 'কী কারণে ক্রিস্তিয়ানোর পিএসজিতে যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে? এটা এমন না যে পিএসজি তাকে নেওয়ার চিন্তা করছে। এর কারণ জর্জ মেন্ডিসকে রোনালদোর জন্য দল খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাস ধরেই এটা দেখছি। তারা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ বলেছে, কোনো সুযোগ নেই, তাকে ফিরিয়ে আনা হবে না। এমএলএসেও কথা বলা হয়েছে। কারণ জুভেন্টাস তার উচ্চ বেতন থেকে মুক্তি পেতে চায়। এটা অনেক কঠিন।'

আর শেষ পর্যন্ত যদি রোনালদো বার্সেলোনায় আসেন তাহলে ফুটবল ভক্তদের বহু দিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। সময়ের সেরা দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। গত দশকের বেশি সময় ধরে এ দুই তারকা বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। রেকর্ড ছয়টি ব্যালন ডি'অর মেসির। পাঁচটি জিতেছেন রোনালদো। দুই জনে মিলে গোল করেছেন ১,২৭২টি। বয়সটা ৩৫ পার হলেও চলতি মৌসুমে ৩৫টি গোল দিয়েছেন রোনালদো। ছন্দে যে কোনো কমতি নেই তা তা থেকেই বোঝা যায়।

তবে বার্সা এ ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে করোনাভাইরাসের এ সময়ে কাতালান ক্লাবটিও বেশ আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাই এতো চড়া বেতনে তাকে কিনে নেওয়ার সামর্থ্য কতোটুকু আছে তা সময়েই জানা যাবে।

Post a Comment

0 Comments