অভিনেতা ও নেতা ফারুকের আজ জন্মদিন

 ছাত্রজীবন থেকে ফারুক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে আজ তিনি সংসদ সদস্য।


এদেশে অভিনেতা থেকে নেতা হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিল্পী। আবার নেতা হয়ে সফলতা পেয়েছেন খুব কম সংখ্যক শিল্পী। সেই অল্পকজন সফল অভিনেতা থেকে নেতা হওয়ার মধ্যে নায়ক ফারুক অন্যতম।

ফারুকের জন্ম পুরনো ঢাকায়। বেড়ে ওঠা সেখানেই। পৈত্রিক নিবাস গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে। ফারুক বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু আমার হৃদয়ে। এর বাইরে কখনো যেতে পারিনি, পারবোও না।’

অভিনেতা হিসেবে সফলতার প্রমাণ বহু বছর আগেই দিয়েছেন তিনি। দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। আজ তিনি ৭২ বছরে পা দিলেন।

ফারুক ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

ফারুক জানান, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলে গিয়েছিলেন অনেকবার। এজন্য তার নামে মামলা হয়েছিল। হুলিয়া মাথায় নিয়েই মিছিলে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়েছিল।

‘জলছবি’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আগমন ঘটে ফারুকের। তারপর অভিনয় করেন বিখ্যাত পরিচালক খান আতার ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমায়। এভাবেই সফলতার সিঁড়িতে নাম লিখিয়েছেন তিনি, যা তাকে ঢাকাই সিনেমায় দিয়েছে এক অনন্য আসন।

ছাত্রজীবনে অনেক সাহসী ছিলেন। ছিলেন ডানপিটে। পুরনো ঢাকায় তখন নাটক ও যাত্রাপালা হতো। বন্ধুদের নিয়ে মঞ্চ নাটক দেখতে গিয়ে বেশ কয়েকবার নাটক বানচাল করে দিয়েছেন। অথচ তাকেই কিনা অভিনয়ে আসতে হয়। বললেন, ‘কেমন করে যেন অভিনয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম! সেই প্রেম এক সময় ভালোবাসায় রূপ নিলো। আর ছাড়তে পারলাম না।’

আগস্ট মাসে জন্মদিন হওয়ায় ঘটা করে দিনটি পালন করেন না নায়ক ফারুক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহীদ হওয়ার পর থেকে তিনি নিজের জন্মদিনটি পালন করেন না। করতে ইচ্ছেও করে না তার।

বাহাত্তর বছরে পা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নদী চলমান। জীবনও চলমান। নদী কখনো থেমে যায়, কখনো শুকিয়ে যায়। মানুষও মরে যায়। কিন্তু, কর্ম রেখে যায়। কর্মই আসল। বাহাত্তর বছর বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে কী করেছি। দেশকে, সমাজকে কতটা দিতে পেরেছি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি দেশকে দেওয়ার। আরও দিতে চাই।’

ফারুক নস্টালজিক হয়ে বললেন, ‘মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্ত নিই আগস্ট মাসে জন্মদিন তাই এ দিনটিতে উৎসব করে বা হইচই করে পালন করব না। আজও একইভাবে আছি। এ দিনে সত্যি মন খারাপ থাকে। কেননা, বাঙালির মহান নেতা এ মাসে মারা গেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালন করি না। করতে চাইও না।’

তার অভিনীত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ একটি স্মরণীয় সিনেমা। ‘আলোর মিছিল’, ‘নয়নমনি’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘সখী তুমি কার’, ‘কথা দিলাম’, ‘সূর্য গ্রহণ’— এ রকম অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া ফারুকের আরও একটি নাম আছে। তা হচ্ছে মিয়াভাই। ‘মিয়া ভাই’ নামে একটি সিনেমাও করেছিলেন তিনি। সিনেমা শিল্পের মানুষরা তাকে ডাকেন ‘মিয়া ভাই’ বলে। বললেন, ‘ভালো লাগে সবাই যখন মিয়া ভাই ডাকেন। ভালোবাসা বুঝি এমনই।’

Post a Comment

0 Comments