করোনা কালীন সময়ে মাস্কের ব্যবসা করে লাখপতি মতলবের আলিফ

ইমাম হোসেন আলিফ ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। আর তিনি সেই কাজটি করে দেখালেন। সে রাজধানী ঢাকার একটি স্কুল থেকে ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর করোনা কালীন সময়ে মাস্ক বিক্রি করে প্রায় দশ লাখ টাকাউপার্জন করেন তরুণ উদ্যোক্তা।বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে পড়ালেখা করতে যাবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।উদ্যোক্তা হওয়ারঝোঁক আসে মাথায় স্কুলের গণ্ডিতে থাকতেই। দেশের জন্য ভালো কিছু করার ভাবনা ছিল সবসময় তার উদ্যোগের পেছনে।



করোনার সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করে আলিফ। প্রায় দশ লাখ টাকা উপার্জন করেন করোনার সময়ে এই তরুণউদ্যোক্তা। তার মাথায় আসে ভিন্ন পরিকল্পনা। চিন্তা করলেন কীভাবে মাস্ক স্বল্পমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। শুরু করলেনমাস্ক উৎপাদন নিয়ে পড়াশুনা আর গবেষণা। পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় পরবর্তী পদক্ষেপ। খোঁজ পান একজন অভিজ্ঞসহকারীর। 


ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে নিজের জমানো টাকায় মাস্ক তৈরির জন্য কেনেন একটা মেশিন। সহকর্মীর সহায়তায় ২০ টাকামূল্যে বিক্রি করেন মাস্ক। অনলাইনে শুরু করেন প্রচারণা। স্বল্প দামে মাস্ক বিক্রি করবেন তিনি। ভালো জিনিসের কদর রয়েছেবলে আলিফ জানতেন। তেমনি প্রথম দিনেই সারা বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার পিস অর্ডার আসে তার কাছে৷ পণ্য ভালোহওয়াতে প্রতিদিনই বাড়তে থাকে চাহিদা।


মাস্কের পাশাপাশি অধিক সুরক্ষার প্রয়োজনে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার জন্য নানা সরঞ্জাম আমদানি করতে শুরু করেন চায়নাথেকে আলিফ। 

তিনি জানানপ্রথমে বিনিয়োগ করার জন্য একটা ভয় কাজ করেছিলতবে কোন চিন্তা-ভাবনা না করে একটা ঝুঁকি নিয়েফেলেন। এর আগে আলিফ নানা প্রতিযোগিতা থেকে বিজয়ী হয়ে প্রায় এক লাখ টাকা জমান৷ সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকাবিনিয়োগ করেন এই ব্যবসায়৷ প্রথমে চায়না থেকে চল্লিশ হাজার টাকার চায়না সার্টিফাইড কেএন-৯৫ মাস্ক আনেন আলিফ৷অবাক করা ব্যাপার ২৪ ঘণ্টার আগেই বিক্রি হয়ে যায় সবগুলো মাস্ক। সেখান থেকেই সাহস খুঁজে পান আলিফ।


পরিবার থেকে সবসময় সহযোগিতা ছিলশুরুতে দেশের জন্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। বাবা-মা যখন বুঝতেপারেন ছেলে ভালো কিছু করছেতখন তারা পাশে ছিল সবসময়। আমি কাজ করার সময় সবসময়ই সুরক্ষার দিকে নজরদিয়েছি’, বলেন তিনি।


তিনি আরও জানানপরবর্তী সময়ে বাসা থেকে এক লাখ টাকা এবং নিজের পুরস্কারের পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে পণ্য আনতেশুরু করেন। দ্বিতীয় ধাপে পণ্য আনার পর ঘটে আবার অবাক কাণ্ড। যে টাকা বিনিয়োগ করেনসে টাকা তিন দিনের মধ্যে হাতেচলে আসে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে নানা ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম আনতে থাকেন। থার্মোমিটারপালস অক্সিমিটারফোগারমেশিনঅটোমেটিক ডিসপেনসারনেবুলাইজার ইত্যাদি।  পর্যন্ত প্রায় ৩০টিরও অধিক হাসপাতালে কোভিড-১৯ এর সুরক্ষাসরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন আলিফ। প্রায় দশ লাখ টাকা উপার্জন করেন করোনার সময়ে এই তরুণ উদ্যোক্তা।

Post a Comment

0 Comments