সম্পূর্ণ উড়োজাহাজে একা আমি, একা আমিই ভ্রমন করলাম উড়োজাহাজে

 


আস্ত একটা উড়োজাহাজ ভাড়া (চার্টার্ড) করার কত খবরই তো পত্রিকায় পড়ি। ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ–বিলাসের গল্পও দৃষ্টি কাড়ে। অনেকের মতো আমার আগ্রহ ওই খবর পর্যন্তই। নিজে কখনো একা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করব, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তবে সেটাই হয়ে গেল বাস্তবে। একজন সাধারণ যাত্রী হয়ে দেশের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে উঠেছিলাম। গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। যাত্রার ঠিক আগে জানতে পারি, কাকতালীয়ভাবে যাত্রী আমি একা!

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রার শেষ ধাপে আমাকে আটকাল ইমিগ্রেশন পুলিশ। একা যাওয়ার কথা শুনে চোখজোড়া তাঁদের রীতিমতো কপালে ওঠার জোগাড়। দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করলেন। তাঁদের অবাক করে দিয়ে আবার একই কথা বললাম, ‘সত্যিই বলছি, যাত্রী শুধুই আমিই। আমাকে একা নিয়ে যাচ্ছে।’

কথাটা বললাম বটে। কিন্তু তখনো আমার নিজের পুরোপুরি বিশ্বাস হয়নি যে উড়োজাহাজে আমি একাই যাচ্ছি। ইমিগ্রেশন কর্মীদের ভাবখানা দেখেও তা–ই মনে হলো, নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো খাতির চলে না! তাঁরা ফোন দিলেন সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার অফিসে। ঘটনার সত্যতা জানলেন।

নিয়ম মেনে বোর্ডিং হয়ে গেল। ফটক পেরিয়ে দেখি গাড়ি অপেক্ষা করছে। রানওয়েতে উড়োজাহাজ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার গাড়ি। গাড়িতে উঠে দেখি, আমি একা। ‘একা যাচ্ছেন’ কথাটা তখন বিশ্বাস হতে শুরু করল। যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শুরু সন্ধ্যায়, কাউন্টারে। সে সময় আমাকে অপেক্ষমাণ দেখে ফ্লাইটের একজন এসে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন?’ উত্তরে গন্তব্যের কথা জানাতেই তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি তো একাই যাচ্ছেন’।

টিকিট নিতে কাউন্টারে গিয়েও শুনেছি একই কথা। প্রতিবছর ঢাকা-কুয়ালালামপুর দুবার যাতায়াত করি। কোনো দিন তো এমন হয়নি। আর দূরের গন্তব্যে একজন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করবেই–বা কেন। কথাটা শুনে সন্দেহের দৃষ্টিতে বিদায় জানাতে আসা বন্ধুর দিকে তাকিয়েছিলাম।

গাড়িতে উঠে মনে হলো, ঘটনা তবে সত্যি! নিয়ম অনুযায়ী কেবিন ক্রুরা উড়োজাহাজের সিঁড়ির গোড়ায় স্বাগত জানালেন। আমি সিঁড়ি বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। বুকটা যেন ধক করে উঠল! বিশাল উড়োজাহাজের শতাধিক আসন রীতিমতো খাঁ খাঁ! আমার নির্ধারিত আসনে (এ-৭) বসলাম। মনে হলো, বিরল ঘটনার কথা বন্ধুদের জানাতে হয়! কিছু ছবি তুলে অনেককে মেসেঞ্জারে পাঠালাম।

বন্ধুদের সঙ্গে আলাপের সময় (রাত ৮টা ৫০ মিনিট) রানওয়েতে গতি বাড়ল উড়োজাহাজের। পুরো ফ্লাইটে চারজন কেবিন ক্রু ছাড়া যাত্রী শুধু আমি। নিয়ম মেনে তাঁরা সতর্কতা আর জরুরি বিষয় সম্পর্কে অবগত করল।

একাকী যাত্রার উচ্ছ্বাস দুশ্চিন্তা গ্রাস করল। তাপমাত্রা বাড়লে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারি। আটকে গেলে আবার ফেরত আসতে হবে দেশে। এমন ঘটনা তো কিছুদিন আগেও ঘটেছে। কেবিন ক্রু এসে জানতে চাইলেন, আমার কিছু চাই কি না। কফি চাইলাম। কফি পান করে একটু স্বস্তিবোধ করলাম। একবার মনে হলো, যাই একটু ককপিটে ঘুরে আসি। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার শঙ্কায় পুরো পথে নিজের আসন ছাড়িনি।

Post a Comment

0 Comments