ক্যাম্প থেকে উধাও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা

 


আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় নয় লাখ ৫৭ হাজার।

গত তিন বছরে জন্মেছে ৭৬ হাজার শিশু। তবুও, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে শরণার্থীর সংখ্যা এ বছরের জুলাই পর্যন্ত কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজারে মতো।

রোহিঙ্গাদের বড় অংশ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা নীরব। অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেই অস্বীকার করেছেন।

সচেতন নাগরিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অনেকেই চিরদিনের জন্য ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকেই আবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে থাকেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের পালানোর কোনো সুযোগ নেই।’

তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই’, বলেন মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ যদি বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পের বাইরে চলে যান, তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে শিবিরে ফিরিয়ে আনেন।’

২০২০ সালের জুলাই মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, সবগুলো ক্যাম্প মিলিয়ে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা আট লাখ ৬০ হাজার ৪৯৪ জন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়কারী প্ল্যাটফর্ম আইএসসিজি প্রতিমাসে তাদের কাজ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা ২০১৯’ শিরোনামে আইএসসিজি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সাত লাখ ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আসেন।

Post a Comment

0 Comments