শাহ আবদুল করিমের ১১তম মৃত্যু দিবসে নেই কোন আয়োজন


গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর এ গুণী সাধক মহাপুরুষ শাহ আবদুল করিমের ১১তম প্রয়াণ দিবস।২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান বাংলা লোকগানের এই কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী।ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সংগ্রাম, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, ন্যায়-অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সৃষ্টিতত্ত্ব, নবীতত্ত্ব, রাধাকৃষ্ণতত্ত্ব, মুর্শিদি, মারফতি, ভক্তিগীতি, মনশিক্ষা, দেহতত্ত্ব, কারবালাতত্ত্ব, বিরহ, বিচ্ছেদ, দেশাত্মবোধক, সমাজ বিনির্মাণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন।



বাউল শাহ আবদুল করিমের গান সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলে। তিনি ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ’র দর্শন থেকে গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। যদিও দারিদ্র্যের কারণে তাকে কৃষিকাজে বিপুল শ্রম দিতে হয়েছে, এরপরও গান সৃজন থেকে বিরত থাকেননি।


তার রচিত গানের মধ্যে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘রঙের দুনিয়া চাই না’, ‘কৃষ্ণ আইল রাধার কুঞ্জে’, ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’সহ অসংখ্য গান মুখে মুখে ফিরে।


‘গাড়ি চলে না চলে না, চলে না-রে গাড়ি চলে না, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান, মিলিয়া বাউলা গান, ঘাঁটু গান গাইতাম’ কিংবা ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ুর পঙ্খী নাও।’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় দিন বদলের গানের জনক শাহ আবদুল করিম।


১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন শাহ্ আবদুল করিম। তার পিতার নাম ইব্রাহিম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান।


শাহ আবদুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত নানান নিদর্শন, স্মারক, পদক ও বিভিন্ন সম্মাননা রাখার জন্য হয়েছে যাদুঘর হয়েছে সমাধি। তার নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত শাহ আব্দুল করিম সঙ্গীতালয় ৪০ বছরেও চালু কারা যায়নি। বহু আশ্বাসের পরও এখনও হচ্ছে না কম্পপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ। জানা যায়, সমাজ পরিবর্তনের চারণকবি একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের আজ ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নেই তেমন কোন আয়োজন। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কিছু কিছু ভক্ত-আশেকারা করছেন ভার্চুয়াল লাইভ করিমগীতি সম্প্রচারের ব্যবস্থা। থাকছে না সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে তার মৃত্যুবার্ষিকীর কোন বড় কোন কর্মসূচী। ভক্তদের দাবি তার নিজ বসতভিটা উজানধলে শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়িতে বড় পরিসরে পরিমন্ডলে কিছু আয়োজন করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

Post a Comment

0 Comments