পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ লাইনে ত্রুটি, নকশা সংশোধনের নির্দেশ

 


পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প (পিএমবিপি) কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নির্দেশনা দিয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্ট (সেতু থেকে সড়ক পর্যন্ত উড়াল রেললাইন) নকশায় একই সমস্যা আছে বলে জানা গেছে।

নির্মাণে ত্রুটি পেয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে এর নকশা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। মূল সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, রেললাইন যে উচ্চতায় হচ্ছে, তাতে সড়ক দিয়ে সেতুতে ওঠার সময় লরি আটকে যাবে।

মূল সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান নকশা অনুযায়ী রেলওয়ে ভায়াডাক্ট নির্মাণ করলে আকারে উচ্চ লরিগুলো চলাচল করতে পারবে না। পিবিআরএলপি কর্তৃক করা নকশায় যে আনুভূমিক সীমার কথা বলা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দীর্ঘতম সেতুর সংযোগকারী রাস্তাগুলোকে সংকুচিত করবে।

মূল সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধিতার মধ্যে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে পিবিআরপিএল কর্তৃপক্ষ প্রশ্নবিদ্ধ পিলার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে, এটি প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় ও সময়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছে পিবিআরপিএল কর্তৃপক্ষ।

ট্রেনগুলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ডাবল ডেক ব্রিজের নিচের ডেক ব্যবহার করবে ও যানবাহনগুলো উপরের রাস্তাটি ব্যবহার করবে। যেহেতু সেতুর দুই পাশের রেলওয়ের ভায়াডাক্টগুলো দীর্ঘ স্লোপ প্রয়োজন, তাই এগুলো ব্রিজের দুই দিকে সংযোগকারী রাস্তার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ভায়াডাক্টের নিম্নভাগ থেকে সড়কের উচ্চতা হতে হবে ৫ দশমিক ৭ মিটার। যাতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে। এ ছাড়াও, একটি জাতীয় মহাসড়কের আদর্শ প্রস্থ ১৫ দশমিক ৫০ মিটার হওয়া উচিত।

বর্তমান নকশা অনুযায়ী রেলপথের ভায়াডাক্টগুলো নির্মিত হলে বড় বড় লরিগুলো সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিবিএ’র নির্বাহী পরিচালক বেলায়েত হোসেন।

মূল সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদার যখন পিলার বসাতে রাস্তাটি খনন করেন, তখনই (১৯ জুলাই) ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করতে বলেন তারা। সেসময় উচ্চতা, প্রস্থ ও সংযোগ পয়েন্টের নকশা সম্পর্কে নথিও চেয়েছিলেন।

বিবিএ’র নির্বাহী পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা গিয়ে দেখব কীভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।’

Post a Comment

0 Comments